ফেনীতে জাতীয় যুবশক্তির ঘোষণা: চাঁদাবাজি নয়, কর্মই হবে রাজনীতি

Image
 ফেনী প্রতিনিধি: যুবসমাজকে সংগঠিত করে নৈতিক ও কর্মভিত্তিক রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে জাতীয় যুবশক্তি ফেনী জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব প্রিন্স মাহামুদ আজিম বলেছেন, “যুবশক্তির নেতৃত্ব রয়েছে বিপ্লবীদের হাতে। আমরা রাজনীতি শুরু করেছি সবচেয়ে তৃণমূল কর্মীর গৃহের পবিত্রতা ও মর্যাদা সুনিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে।” ফেনী জেলার নবগঠিত জাতীয় যুবশক্তির পরিচিতি সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “ফেনীবাসীর জন্য আমরা কী করতে পারবো, তা সময়ই দেখাবে। তবে আজ একটি বাস্তব উদ্যোগের ঘোষণা দিচ্ছি—ফেনী জেলা কমিটির বর্তমান ৪৭ জন সদস্যের মধ্যে যারা বেকার, তাদের জন্য বৈধ উপার্জনের ব্যবস্থা করতে সংগঠনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” সংগঠনের নৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “জাতীয় যুবশক্তি কখনো চাঁদাবাজ হবে না। আমরা কর্ম করে দিন চালাবো। মানুষের সম্মানজনক উপার্জনই হবে আমাদের রাজনীতির ভিত্তি।” সভায় জাতীয় যুবশক্তি ফেনী জেলা কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় যুবসমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা যুব নেতৃত্ব, কর্মসংস্থান এবং নৈতিক রাজনৈ...

“যেখানে সত্য অম্লান, বিভাজন ধ্বংসই বয়ে আনে” — ছাত্রনেতা আজিম

FeniQ.Press Editorial Desk | সম্পাদকীয় ডেস্ক — ১৯ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি স্ট্যাটাস নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমন্বয়ক প্রিন্স মাহামুদ আজিম তার ফেসবুক পোস্টে ইতিহাস, রাজনীতি ও জাতিসত্তার বিভাজন নিয়ে এক তীব্র আত্মসমালোচনামূলক বার্তা দিয়েছেন।

“যেখানে সত্য অম্লান, সেখানে বিভাজন ধ্বংসই বয়ে আনে।”

এই একটি বাক্যেই যেন আজকের রাজনীতির আত্মচিত্র ফুটে উঠেছে — বিভক্ত চিন্তা, বিভক্ত দল, বিভক্ত মানুষ।

🔹 ইতিহাসের পুনরালোচনা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা

আজিমের বক্তব্যে উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী রাজনীতির ‘ক্রেডিটবাজি’-র প্রসঙ্গ। তিনি উল্লেখ করেন,

“একাত্তরে ক্রেডিটবাজী করে মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামী লীগ নিয়েছিলো, অথচ তারা রাখতে পারেনি।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে লেখক আসলে প্রশ্ন তুলেছেন — মুক্তিযুদ্ধ বা গণআন্দোলনের মতো ইতিহাসিক অর্জন কি কোনো একক দলের সম্পত্তি হতে পারে?

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর মতো জনতার আন্দোলনকেও দলীয় রঙে রাঙানোর চেষ্টা নিয়ে তার আক্ষেপ স্পষ্ট।

🔹 “মেধাবীদের ষড়যন্ত্র” — এক কড়া সতর্কতা

আজিম তার পোস্টে লিখেছেন,

“আপনাদের শিক্ষিত ষড়যন্ত্র দেশ ধ্বংস করছে।”

এই বক্তব্যটি কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, দেশের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রতিও এক অন্তর্নিহিত প্রশ্ন ছুড়ে দেয় — যারা অনেক সময় নীতিহীন সুবিধাবাদে জড়িয়ে জাতীয় স্বার্থকে গৌণ করে তোলে।

🔹 “চব্বিশের বিপ্লব” ও তার উত্তরাধিকার

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান, যা ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছিলো, তাকে আজিম “চব্বিশের বিপ্লব” নামে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন,

“চব্বিশের এতো বড় গণঅভ্যুত্থানের পরেও, এমন ভাবনা শুধু মিথ্যা অহমিকাতেই মানায়, রবের দাসত্বে নয়।”
July Uprising

ফাইল ছবি — ৪ আগস্ট, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

🔹 জাতীয় নায়কদের প্রতি অসম্মান নিয়ে ক্ষোভ

“বাংলাদেশীরা আপনাদের মতো শিক্ষিত অপকর্মে তৎপর গোষ্ঠীর কারণে আজও আমরা তেমন করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তিতুমীর, ভাসানী, শেখ মুজিব, জগদিশ কিংবা শেরে বাংলাকে সম্মান করতে পারি না।”

এই মন্তব্য ইতিহাসের সকল নেতাকে এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে একটি সামগ্রিক জাতীয় সম্মানের দাবি তোলে — যা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রায় হারিয়ে গেছে।

🔹 সম্পাদকের দৃষ্টিভঙ্গি

আজিমের এই স্ট্যাটাসকে কেবল একটি ‘রাজনৈতিক পোস্ট’ হিসেবে দেখা ভুল হবে। এটি এক অর্থে একটি সামাজিক ও বৌদ্ধিক চ্যালেঞ্জ, যা আমাদের চিন্তার গন্ডি প্রসারিত করে।

ফেনিক.প্রেস মনে করে — এমন মতপ্রকাশগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শোরগোলের মাঝেও একটি আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করতে পারে, যদি তা বাস্তব আলোচনায় ও নীতিনির্ধারণে জায়গা পায়।

🔹 শেষ কথা

“অতএব সাবধান হে আমার প্রিয় বন্ধু। আমি তোমার শত্রু নয়। আমরা চাই তোমাদের মেধার যথার্থ বিনিয়োগ।”

ঐক্য, সংযম ও সত্যের পথে ফিরে আসার আহ্বান।

সম্পাদকীয় মন্তব্য:

“জাতিকে বিভক্ত করে কেউই স্থায়ী হয়নি।” — ইতিহাস তার সাক্ষী, আর সময়ই এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করবে।
Post Reference

Comments

Popular posts from this blog

ফেনী ডিসি বদলি : ১৫ ঘণ্টায় কারণ উম্মুক্ত না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

জুলাই আন্দোলনকে রাজনৈতিক তুষ্টির খেলায় ব্যবহার করা হচ্ছে

ছাত্রনেতা প্রিন্স মাহামুদ আজিমের বক্তব্য: “জুলাই সনদ বাস্তবায়নই রাজনৈতিক নিরাপত্তার বৈধতা”