ফেনীতে জাতীয় যুবশক্তির ঘোষণা: চাঁদাবাজি নয়, কর্মই হবে রাজনীতি

Image
 ফেনী প্রতিনিধি: যুবসমাজকে সংগঠিত করে নৈতিক ও কর্মভিত্তিক রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে জাতীয় যুবশক্তি ফেনী জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব প্রিন্স মাহামুদ আজিম বলেছেন, “যুবশক্তির নেতৃত্ব রয়েছে বিপ্লবীদের হাতে। আমরা রাজনীতি শুরু করেছি সবচেয়ে তৃণমূল কর্মীর গৃহের পবিত্রতা ও মর্যাদা সুনিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে।” ফেনী জেলার নবগঠিত জাতীয় যুবশক্তির পরিচিতি সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “ফেনীবাসীর জন্য আমরা কী করতে পারবো, তা সময়ই দেখাবে। তবে আজ একটি বাস্তব উদ্যোগের ঘোষণা দিচ্ছি—ফেনী জেলা কমিটির বর্তমান ৪৭ জন সদস্যের মধ্যে যারা বেকার, তাদের জন্য বৈধ উপার্জনের ব্যবস্থা করতে সংগঠনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” সংগঠনের নৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “জাতীয় যুবশক্তি কখনো চাঁদাবাজ হবে না। আমরা কর্ম করে দিন চালাবো। মানুষের সম্মানজনক উপার্জনই হবে আমাদের রাজনীতির ভিত্তি।” সভায় জাতীয় যুবশক্তি ফেনী জেলা কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় যুবসমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা যুব নেতৃত্ব, কর্মসংস্থান এবং নৈতিক রাজনৈ...

ফেনী—ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সম্ভাবনার জেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি : 






 বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ছোট্ট জেলা ফেনী, যার নামের সাথে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সংগ্রামের নানা অধ্যায়।

প্রাচীনকাল

ফেনীর ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। ধারণা করা হয়, প্রাচীন সমুদ্রতীরবর্তী সভ্যতার একটি অংশ ছিলো এ অঞ্চল। নদী-নালা, খাল-বিল আর সবুজ প্রকৃতির মাঝে গড়ে ওঠা এই জনপদে ছিলো আদি বাংলার কৃষিভিত্তিক জীবনযাত্রা।

মধ্যযুগ

মধ্যযুগে ফেনী ছিল বাণিজ্য ও নৌপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। চট্টগ্রাম বন্দরগামী বহু ব্যবসায়ী কাফেলা ফেনীর নদীপথ হয়ে যাতায়াত করতো। এই সময়ে আরব ব্যবসায়ীদের প্রভাবে ইসলাম প্রচারিত হয় এ অঞ্চলে।

ব্রিটিশ আমল ব্রিটিশ শাসনামলে ফেনী ছিলো তৎকালীন নোয়াখালী জেলার অন্তর্ভুক্ত। ১৯০৬ সালে ফেনী মহকুমা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই সময়েই ফেনীতে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়ন ঘটে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও ফেনীর তরুণরা সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ফেনী ছিলো একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র। ফেনীর মানুষ জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। মুক্তিকামী মানুষদের আত্মত্যাগ ফেনীর ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ

১৯৮৪ সালে ফেনী পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তখন থেকে শিক্ষা, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও সামাজিক অগ্রগতিতে ফেনী দ্রুত এগিয়ে যেতে শুরু করে।

বর্তমান ফেনী
আজকের ফেনী বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় জেলা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থানের কারণে এটি ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানা, আধুনিক সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ফেনীকে আরও এগিয়ে নিচ্ছে। ✨ উপসংহার ফেনী শুধু একটি জেলা নয়, এটি হলো এক টুকরো ইতিহাস, এক টুকরো সংগ্রাম এবং এক সম্ভাবনার নাম। অতীতের ঐতিহ্য আর বর্তমানের অর্জন মিলে ফেনীকে গড়ে তুলছে আগামী দিনের আরও উজ্জ্বল বাংলাদেশ।

Comments

Popular posts from this blog

ফেনী ডিসি বদলি : ১৫ ঘণ্টায় কারণ উম্মুক্ত না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

জুলাই আন্দোলনকে রাজনৈতিক তুষ্টির খেলায় ব্যবহার করা হচ্ছে

ছাত্রনেতা প্রিন্স মাহামুদ আজিমের বক্তব্য: “জুলাই সনদ বাস্তবায়নই রাজনৈতিক নিরাপত্তার বৈধতা”